ওয়ান ইলেভেন ও ২০০৬ সালের লগি বৈঠা আন্দোলনের ভয়াবহতা : পার্ট-১

ওয়ান ইলেভেনের ঘটনা মোটামুটি প্রত্যেকের জানা তারপরও একটু বলি, সব দিক থেকে বলির পাটা হয় সাধারণ মানুষ, দেশের প্রায় শতকরা পঞ্চাশ থেকে ষাট ভাগ মানুষ রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি পছন্দও করে না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে অন্যান্য অনুন্নত দেশের তুলনায় অনেক দূর্বল। এ দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত। পারিবারিক আয়ের উৎস কম থাকে। তাই এসব পরিবারের দিন আনি দিন খাওয়ার অবস্থা, যদি রাজনীতি করে তাহলে পেটে ভাত জোটে না, একদিন কাজ না করলে পরের দিন কি খাবে তার চিন্তা করতে হয়। তাই দেশের মুষ্টিমেয় মানুষ রাজনীতি থেকে বিরত থাকে।

তাই যত অন্যায় অবিচার অত্যাচার সব এই সব মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ জনের উপর দিয়ে যায়। রাজনৈতিক দল গুলো রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য এসব মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আজীবন। তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আজীবন রাজনৈতিক খেলা খেলে আসছে। মাত্র বিশ পারসেন্ট মানুষ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারতো, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে সধারণ মানুষ। আমার কাছে “রাজনীতি নর্দমার মত যেখান থেকে শুধু দূর্গন্ধ ছড়ায়”।

২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার এর ক্ষমতা শেষ হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ২৮শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরাশক্তি, বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এর তোপের মুখে পরেন।

এদিকে ২৮শে অক্টোবর আওয়ামী ও ১৪ দলীয় অঙ্গসংগঠন এর ডাকা সমাবেশ বিপুল সংখ্যক আওয়ামী নেতা কর্মী ও ভাড়াটিয়া খুনী, সন্ত্রাসী সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে। তৎকালীন আওয়ামী সভানেত্রী ও সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে। বি এন পি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আগমহূর্তে বিচারপতি কে এম হাসান কে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর উপদেষ্টা প্রধান করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে , আওয়ামী ও ১৪ দলীয় অঙ্গসংঠন এর কঠোর আন্দোলনের মুখে রাজনৈতিক চাপে তা আর করা হয় না ।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২৮ শে অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ২৮শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনার ভার গ্রহণ করলেও তাতেও আপত্তি জানায় আওয়ামী ১৪ দলীও জোট। তাদের অভিযোগ ছিল যে তিনি বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল, বিএনপির মতাদর্শের অনুসারী, এবং আইন—শৃংখলা বাহিনী তার আদেশে চলে। ২৮ শে অক্টোবর আওয়ামী লীগ ১৪ দলীও জোট এর সেই সমাবেশে নেতা কর্মী ও ভাড়াটিয়া খুনী, সন্ত্রাসীরা লগি বৈঠা, লাটিসোডা নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। তাদের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি পন্থী।

২০০৬ সালের ২৭ শে অক্টোবর সন্ধ্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ দেন। সেদিন ভাষণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয় মানুষ নামের আওয়ামী অসুরের নারকীয় তান্ডব। মুলত সেদিনই শুরু হয় বাঙালি ইতিহাসের কালো অধ্যায়। ঐদিন রাতেই পুড়িয়ে দেওয়া হয় বিএনপি ও জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঘরবাড়ী, লগিবৈঠা মিছিলের নামে সারা দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে লগি বৈঠা দিয়ে নির্বিচারে পিটিয়ে মারা হয়।

এ বিষয়ে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়, মামলা কোটের গোন্ডিতে গেলে, আওয়ামী সরকার মামলাকারীদের বিভিন্ন রকম ভয় ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করায়। যার বিচার আজও হয়নি। পরের দিন ২৮ শে অক্টোবর সকাল থেকে গুলিস্তানে ডাকা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট এর সমাবেশে লগিবৈঠা, লাঠিসোডা, রামদা, ছুরি, চাপাতি, কেউ কেউ শর্টগান, বিভিন্ন রকম আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় আওয়ামী সন্ত্রাসী লীগ বাহিনী। সেদিন ২৮ শে অক্টোবর পল্টন থেকে বিজয়স্মরণী পর্যন্ত বিএনপি—জামায়াত এর পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ ছিল।

পরবতীর্তে আওয়ামী সন্ত্রাসীলীগ পাল্টা সমাবেশ এর ডাক দেয়, নগরীর বুকে নারকীয় ধ্বংসযোগ্য, পৈচাশিক স্বভাব দেখানোর জন্য। সেদিন নগরবাসী সাক্ষী হয় অসুরীয় তান্ডবের। আওয়ামী সন্ত্রাসবাহিনী লগিবৈঠা, লাঠিসোডা, রামদা, ছুরি, চাপাতি, কেউ কেউ শর্টগান, বিভিন্ন রকম আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে বিএনপি ও জামায়াত এর ডাকা সমাবেশে।

সেদিন এর সেই আওয়ামী সন্ত্রাসীলীগ বাহিনীর নারকীয় তান্ডবে ৪০ জন তরতাজা, তরুণ, প্রাণ হারায়, হারিয়ে যায় ৪০টি লাল গোলাপ। আওয়ামী লীগের রাজনীতি হলো খুনের রাজনীতি যার শুরু করে শেখ মুজিব এবং তার সেই ধারাকে আকড়ে ধরে শেখ হাসিনা।

সেদিনের সেই আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলার তান্ডবে রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল পল্টন মোড়। বর্বর এই আওয়ামী সন্ত্রাসী লীগ ও ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে দফায় দফায় হামলা চালায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে এবং পল্টন মোড়ের বিভিন্ন বিল্ডিং এর ছাদ থেকে বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র নিক্ষেপ করে সমাবেশে আগত নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের উপর। আওয়ামী অস্ত্রধারীরা পল্টন মোড় থেকে গুলি ছুরতে ছুরতে এগিয়ে যায় সমাবেশের দিকে এতে স্পটেই মারা যায় জামায়াতের ৮—১০ জন নেতাকর্মী।

লগিবৈঠা নিয়ে মৃত লাশের উপর নৃত্য করে আওয়ামী সন্ত্রাসবাহিনীর বর্বর কমীর্বৃন্দ। এ দৃশ্য দেখেছে নগরবাসী। এ দৃশ্য মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। মানবতা বিরোধী এরকম বর্বর হত্যা কান্ডে খুনী হাসিনার জনসম্মুখে ফাঁসি হলেও আমি বিচলিত হবো না।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে সরকারের চার উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন। নিয়োগ দেয়া হয় নতুন উপদেষ্টা। এরই মধ্যে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও সম্পৃক্ত ১৪ দল রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে সহিংসতা, হামলা, বিভিন্ন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়।

সামগ্রিক পরিবেশ যেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় সোনার বদ্বীপ। পরবর্তীতে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে তিন বাহিনীর প্রধান ও প্রতিনিধিগণ, তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা গণ বঙ্গভবনে যান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফোর্স করেন।

(সংক্ষেপিত) পর্ব-১

লেখক: ফারুক ফরায়েজি।

তথ্য সুত্র: ইন্টারনেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts