জয় বাংলা” ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের স্লোগান ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগাতো এই স্লোগান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই স্লোগান ছিল বাঙালির সাহস, ঐক্য ও স্বাধীনতার আহ্বান। শরীর কে চাঙা করতে, শরীরে শক্তি যোগাতে এই “জয় বাংলা” মন্ত্র শক্তির মত কাজ করতো। এই স্লোগান প্রেরণা জোগায় দেশপ্রেমের এবং এটি হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয়তার প্রতীক বহন করে।
“জয় বাংলা” শুধু মাত্র দুটো শব্দ না বাংলার বাঙালির “প্রাণ ভোমরা” এই স্লোগান। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই স্লোগান কে কলুষিত করে ফেলেছে। কাজী নজরুল ইসলাম এর ভাঙার গান কাব্য গ্রন্থে পূর্ণ—অভিনন্দন কবিতায় ব্যবহার করেন এই জয় বাংলা শব্দ দুটো। তার পর থেকে শব্দ দুটো আর শব্দ থাকেনি প্রেরণার স্লোগান হয়ে উঠে। মুক্তিযোদ্ধারা কোন এলাকায় যুদ্ধে জয় পেলে তারা এই জয় বাংলা স্লোগান বিজয় উৎযাপন করতো। ১৯৭০ সালে ১৯ জানুয়ারি পল্টনের এক জনসভায় ছাত্রনেতা “সিরাজুল আলম খান” সর্বপ্রথম এই জয়বাংলা শব্দ দুটো কোন রাজনৈতিক বক্তৃতায় ব্যবহার করেন।
তার আগে ১৯৬৯ সালে ১৫ই সেপ্টেম্বর মধুর ক্যান্টিনে তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর আয়োজিত এক সভায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতি হেলালুর রহমান এই জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করেন। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ এর ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান “জয় বাংলা” স্লোগান ব্যবহার করে “জয় বাংলা জয় পাকিস্তান” বলে ভাষণ শেষ করেন। তারপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করে।
১৯৭১ সালের ২৭ শে মার্চ অস্থায়ী কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তার শেষেও তিনি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ঘোষণাপত্র শেষ করেন। তারপর থেকে সব স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জয় বাংলা স্লোগান ব্যবহার করা শুরু করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্বাক্ষর সঙ্গীত হিসাবে “জয় বাংলা, বাংলার জয়”। তার পর থেকে এই জয় বাংলা স্লোগান জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে আসে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তি যোদ্ধারা বিভিন্ন অঞ্চল জয়ের পর বিজয় উল্লাস করার জন্য এই জয় বাংলা স্লোগান দিতো। ২০২০ সালের ১০ই মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া রায়, জাতীয় স্লোগান হিসাবে ব্যবহার করার জন্য রায় প্রদান করেন। কিন্তু এই “জয় বাংলা” স্লোগান যখন থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ তাদের দলীও কার্যক্রম এর সাথে ব্যবহার করা শুরু করে তারপর থেকে এই স্লোগান আর জাতীয় থাকে না। এটা তখন শুধু মাত্র রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ এর স্লোগান হয়ে যায়। জয় বাংলা স্লোগান দেশের আপামর জনগণের ইমোশন, প্রেরণা, শক্তি, দেশপ্রেম জাগানো মুলমন্ত্র ছিল।
কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করা শুরু করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগ বাঙালির ইমোশন নিয়ে রাজনীতি শুরু করে, যে শব্দ উচ্চারণ কারার সাথে সাথে শরীরে বিদ্যুৎ গতিতে শক্তি সঞ্চারিত হতো, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি প্রাণ দিয়ে দিত। যেই স্লোগান দিতে দিতে বাংলার সাধারণ মানুষ হাসতে হাসতে প্রাণ দিতেও বিন্দু মাত্র চিন্তা করতো না।
আওয়ামী লীগ সেই শব্দ দুটো কে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করায় জয় বাংলা স্লোগান এর জৌলুশ হারিয়ে ফেলে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভিন্ন রকম অপকর্মের সাথে এই শব্দ দুটো ব্যবহার করে কলুষিত করে ফেলেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে সফলও এই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে ১৬ বছরের সৈরাশাসন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের উপর নির্মম জুলুম, গণহত্যা, নির্বিচারে খুন, গুম, ছিনতাই, চাদাবাজি আরও বিভিন্ন রকম অন্যায় অত্যাচার করে।
যেভাবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল সৈরাশসক শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিব করেছিল। দেশে “বাকশাল” কায়েম করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। শেখ হাসিনা পেরেছিল, ১৬ কোটি বাঙালিকে জিম্মি করে ১৬ বছর সৈরাচারী শাসনতন্ত্র কায়েম করেন। বাঙালির প্রাণ ভোমরা কে তারা রাজনৈতিক ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। বাংলার বাঙালির সেই প্রাণ ভোমরা কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। যাদেরকে বাংলার বাঙালি সৈরাচারী রাজনৈতিক দলে আখ্যায়িত করে দেশান্তরি করতে বাধ্য করেছে।
এই স্লোগান একার কোন রাজনৈতিক দলের না। তাই আওয়ামী লীগ এর উচিত “জয় বাংলা” স্লোগান তাদের দলীয় স্লোগান থেকে বাদ দিয়ে নতুন স্লোগান যুক্ত করা। বাঙালির আবেগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার না করা। বাঙালির প্রাণ ভোমরা “জয় বাংলা” “বাংলার জয়” সৈরাচারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এর দলীয় স্লোগান থেকে অবমুক্ত করে জাতীয় স্লোগান হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া। “জয় বাংলা” স্লোগান কে রাষ্ট্রীয় স্লোগান হিসাবে বাবহার করা। এটি কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, আজও জাতীয় চেতনার এক শক্তিশালী প্রতীক।


